
১৮৯৯ খ্রিস্টাব্দে একটি কথোপকথনে স্বামী বিবেকানান্দ “হিন্দুধর্মের সীমানা ও হিন্দুধর্ম পুনঃ গ্রহণ” নিয়ে কি বলেছিলেন।।
‘স্বামীজী, যাহারা হিন্দুধর্ম ছাড়িয়া অন্য ধর্ম গ্রহণ করিয়াছে, তাহাদিগকে হিন্দুধর্মে পুনর্গ্রহণ-বিষয়ে আপনার মতামত কি জানিবার জন্য আপনার সহিত সাক্ষাৎ করিতে আসিয়াছি। আপনার কি মত, তাহাদিগকে আবার গ্রহণ করা যাইতে পারে?’ স্বামীজী বলিলেন, ‘নিশ্চয়। তাহাদের অনায়াসে গ্রহণ করা যাইতে পারে, করা উচিতও।’ তিনি মুহূর্তকাল গম্ভীরভাবে চিন্তা করিয়া বলিতে আরম্ভ করিলেন— ‘আর এক কথা তাহাদিগকে পুনর্গ্রহণ না করিলে আমাদের সংখ্যা ক্রমশঃ হ্রাস পাইবে। যখন মুসলমানেরা প্রথমে এদেশে আসিয়াছিলেন, তখন প্রাচীনতম মুসলমানের ঐতিহাসিক ফেরিস্তার মতে ভারতে ৬০ কোটি হিন্দু ছিল, এখন আমরা বিশ কোটিতে পরিণত হইয়াছি। আর, কোন লোক হিন্দুসমাজ ত্যাগ করিলে সমাজে শুধু যে একটি লোক কম পড়ে তাহা নয়, একটি করিয়া শত্রু বৃদ্ধি হয়! ‘তারপর আবার হিন্দুধর্মত্যাগী মুসলমান বা খ্রীষ্টানের মধ্যে অধিকাংশই তরবারিবলে ঐ-সব ধর্ম গ্রহণ করিতে বাধ্য হইয়াছে, অথবা যাহারা ইতঃপূর্বে ঐরূপ করিয়াছে, তাহাদেরই বংশধর। ইহাদিগের হিন্দুধর্মে ফিরিয়া আসিবার পক্ষে নানারূপ আপত্তি উত্থাপন করা বা প্রতিবন্ধকতা করা স্পষ্টতই অন্যায়। আর যাহারা কোনকালে হিন্দুসমাজভুক্ত ছিল না, তাহাদের সম্বন্ধেও কি আপনি জিজ্ঞাসা করিয়াছিলেন? দেখুন না, অতীতকালে এইরূপ লক্ষ লক্ষ বিধর্মীকে হিন্দুধর্মে আনা হইয়াছে, আর এখনও সেরূপ চলিতেছে। ‘আমার নিজের মত এই যে, ভারতের আদিবাসিগণ, বহিরাগত জাতিসমূহ এবং মুসলমানাধিকারের পূর্ববর্তী আমাদের প্রায় সকল বিজেতৃবর্গের পক্ষেই ঐ কথা প্রযুক্ত হইতে পারে। শুধু তাহাই নহে, পুরাণসমূহে যে-সকল জাতির বিশেষ উৎপত্তির বিষয় কথিত হইয়াছে, তাহাদের সম্বন্ধেও ঐ কথা খাটে। আমার মতে তাহারা অন্যধর্মী ছিল, তাহাদিগকে হিন্দু করিয়া লওয়া হইয়াছে। ‘যাঁহারা ইচ্ছাপূর্বক ধর্মান্তর গ্রহণ করিয়াছিল, কিন্তু এখন হিন্দুসমাজে ফিরিয়া আসিতে চায়, তাহাদের পক্ষে প্রায়শ্চিত্ত-ক্রিয়া আবশ্যক, তাহাতে কোন সন্দেহ নাই। কিন্তু যাহাদিগকে বলপূর্বক ধর্মান্তরিত করা হইয়াছিল—যেমন কাশ্মীর ও নেপালে অনেককে দেখা যায়, অথবা যাহারা কখনও হিন্দু ছিল না, এখন হিন্দুসমাজে প্রবেশ করিতে চায়, তাহাদের পক্ষে কোনরূপ প্রায়শ্চিত্ত-ব্যবস্থা করা উচিত নহে।’ সাহসপূর্বক জিজ্ঞাসা করিলাম, ‘স্বামীজী, কিন্তু ইহারা কোন্ জাতি হইবে? তাহাদের কোন-না-কোনরূপ জাতি থাকা আবশ্যক, নতুবা তাহারা কখনও বিশাল হিন্দুসমাজের অঙ্গীভূত হইতে পারিবে না। হিন্দুসমাজে তাহাদের যথার্থ স্থান কোথায়?’ স্বামীজী ধীরভাবে বলিলেন, ‘যাহারা পূর্বে হিন্দু ছিল, তাহারা অবশ্য তাহাদের জাতি ফিরিয়া পাইবে। আর যাহারা নূতন, তাহারা নিজের জাতি নিজেরাই করিয়া লইবে।’ তিনি আরও বলিতে লাগিলেন, ‘স্মরণ রাখিবেন, বৈষ্ণব-সমাজে ইতঃপূর্বেই এই ব্যাপার ঘটিয়াছে এবং অহিন্দু ও হিন্দুধর্মের বিভিন্ন জাতি হইতে যাহারা ধর্মান্তর গ্রহণ করিয়াছিল, সকলেই বৈষ্ণব-সমাজের আশ্রয় লাভ করিয়া নিজেদেরই একটা জাতি গঠন করিয়া লইয়াছিল, আর সে-জাতি বড় হীন জাতি নহে, বেশ ভদ্র জাতি। রামানুজ হইতে আরম্ভ করিয়া বাঙলাদেশে শ্রীচৈতন্য পর্যন্ত সকল বড় বড় বৈষ্ণব আচার্যই ইহা করিয়াছেন।’ আমি জিজ্ঞাসা করিলাম, ‘এই নূতন যাহারা আসিবে, তাহাদের বিবাহ কোথায় হইবে?’ স্বামীজী স্থিরভাবে বলিলেন, ‘এখন যেমন চলিতেছে, নিজেদের মধ্যেই।’ আমি বলিলাম, ‘তারপর নামের কথা। আমার বোধ হয়, অহিন্দু এবং যে-সব স্বধর্মত্যাগী অহিন্দু নাম লইয়াছিল, তাহাদের নূতন নামকরণ করা উচিত। তাহাদিগকে কি জাতিসূচক নাম বা আর কোনপ্রকার নাম দেওয়া যাইবে?’ স্বামীজী চিন্তা করিতে করিতে বলিলেন, ‘অবশ্য নামের অনেকটা শক্তি আছে বটে।’ কিন্তু তিনি এই বিষয়ে আর অধিক কিছু বলিলেন না। কিন্তু তারপর আমি যাহা জিজ্ঞাসা করিলাম, তাহাতে তাঁহার আগ্রহ যেন উদ্দীপ্ত হইল। প্রশ্ন করিলাম—‘স্বামীজী, এই নব আগন্তুকগণ কি হিন্দুধর্মের বিভিন্ন প্রকার শাখা হইতে নিজেদের ধর্মপ্রণালী নিজেরাই নির্বাচন করিয়া লইবে, অথবা আপনি তাহাদের জন্য একটা নির্দিষ্ট ধর্মপ্রণালী নির্বাচন করিয়া দিবেন?’ স্বামীজী বলিলেন, ‘এ-কথা কি আবার জিজ্ঞাসা করিতে হয়? তাহারা আপনাপন পথ নিজেরাই বাছিয়া লইবে। কারণ নিজে নির্বাচন করিয়া না লইলে হিন্দুধর্মের মূলভাবটিই নষ্ট করা হয়। আমাদের ধর্মের সার এইটুকু যে, প্রত্যকের নিজ নিজ ইষ্ট-নির্বাচনের অধিকার আছে।’ (স্বামী বিবেকানন্দের বাণী ও রচনা/খণ্ড - ৯/হিন্দুধর্মের সীমানা/‘প্রবুদ্ধ ভারত’, এপ্রিল, ১৮৯৯)
রাজনীতি

Importance of visual memories & gems of words of Shri Ajit "Bharatiyon James Bond" Doval ~ Written by Saradindu S Muhuri.
১৫/৯/২০২৬

১৮তম ব্রিকস সামিটে 'নিউ দিল্লি ডিক্লারেশন' নরেন্দ্র মোদীর সবথেকে বড়ো জিওপলিটিক্যাল উইন ~ স্বরূপ চট্টোপাধ্যায়
১৫/৯/২০২৬

সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণানের জন্মদিনে শিক্ষক দিবস উদযাপন একটি কলঙ্কিত পরম্পরা
৫/৯/২০২৬

⭐ যা শুভেন্দু ৩ মাসে করতে পারলেন, থালাপতি এতদিনে পারল না; Suvendu Adhikari is the Boss.
৯/৮/২০২৬
ভারত

পাকিস্থানি মহিলারা বলছে “ভারতীয় পুরুষকেই বিয়ে করতে চাই”।
৬/৯/২০২৬

Without real NEET students Deep State Sponsored (?!?) Delhi Protest Turns Violent: Police Vehicles Damaged During 'Chalo Sansad' March,
২১/৭/২০২৬

দিল্লির বিক্ষোভ ঘিরে বিদেশি প্রভাবের অভিযোগ ও সরকারের অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসে দেশের বিপদ রাজনৈতিক মহলে নতুন বিতর্ক। স্বরূপ চট্টোপাধ্যায়| স্পষ্টবার্তা
২০/৭/২০২৬
রাজ্য
কবিতা
আমি আর বেঁচে নেই.. ~ স্বরূপ চট্টোপাধ্যায়
এবার দেখা হলে বলে দিও..
আমি আর বেঁচে নেই;
সত্যিই আমি এবার মরেই গেলাম,
হয়ত মরে গিয়েই বেঁচে গেলাম॥
কিন্তু আমি বেঁচে থাকব সোশ্যাল মিডিয়ায়..
কিছু লোকের মনের আঙিনায়, আকাশে, কুয়াশায়;
তবে নিজের হাতে খুন হতে মন্দ লাগছে না,
বাঁচতে আমি সত্যিই চাইতাম কিন্তু বাঁচতে পারলাম না॥
প্রিয়জনরা সফলভাবে প্রতিশোধ নিল..
তবে অন্যের ওপর প্রতিশোধ নিয়ে আমায় মেরে ফেলল।
যখন আমি প্রতিক্ষনে খুন হতাম তাদের মুখে থাকত স্নিগ্ধ হাসি,
তবে এখন আমার মৃতদেহ দেখে তারাই কাঁদবে রাশি রাশি॥
কেউ কেউ ভাববে আমার কেন এমন পলায়ন!!
আসলে এই এত বছরে দেখেছি অনেক মুখোশের উন্মোচন।
অনেক সত্য এখানে প্রতি নিয়ত মিথ্যায় পরিণত হয়..
চোর ডাকাত খুনি বেঁচে যায় হলুদ গোলাপ দিয়ে স্তাবকতায়॥
হ্যাঁ আমিও হয়ত পারতাম অসৎ ধান্দাবাজ হতে..
চটি চেটে বা সেটিং করে বিত্তশালী হতে;
কিন্তু আমার যে মাথায় চাপল নীতি, সততার ভুত..
কর্পোরেট দুনিয়ার নিশ্চিত রোজগার ছেড়ে অন্যায়ের সঙ্গে লড়ার ভুত॥
কিন্তু রাজনীতি সমাজসেবাও তো মতলবিদের রাজত্ব;
তাই সেখানেও যে হল মোহভঙ্গ, রাজনীতিরও হাজারও রঙ্গ।
খারাপ যেখানে ভাল হয়, পাপকে বাঁচায় রাজনৈতিক গুরু,
কারণ কলি যুগে হয়েছে যে কামিনী কাঞ্চন মদিরা শুরু॥
আজ আমি সকলের মধ্যেও বড় একা…
সন্ত কবীর ঠিকই বলেছিলেন;
সকলেই কেবল সুখের সাথী
দুঃখের সময় সবাই দেয় ফাঁকি॥
শেষ প্রান্তে এসেও মানুষ মনের মানুষ খোঁজে…
কিন্তু সেই যে অভাগা যেদিকে চায়
সাগরও শুকায়ে যায়।
তাই ছুটে গিয়ে দেখি সবই কেবল মরীচিকা,
কিন্তু আসলে যে সবই কেবল আশাকে ডাকা॥
তুমি আমায় দিয়েছিলে কল্পনার ভালবাসা,
বুঝিনি যে তোমার হাতেই খুন হবে সকল আশা।
না কেউই দোষী নয়, সকলেই নিজেরটাই দেখবে,
আবার হয়ত আমার মৃত্যুর পর সকলের হাতেই রক্ত থাকবে॥
__________________________ ওঁ শান্তি



